1. md.sabbir073@gmail.com : amicritas :
বন্দি নেতাদের নির্দেশনায় সংগঠিত হচ্ছে হুজি - Metrolife.press
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন

বন্দি নেতাদের নির্দেশনায় সংগঠিত হচ্ছে হুজি

ইমন রহমান
  • Update Time : শনিবার, ৬ মার্চ, ২০২১
  • ১০০ Time View

কারাগারে বসে জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী (হুজি) পুনর্গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন সংগঠনটির মৃত্যুদণ্ড পাওয়া দুর্ধর্ষ জঙ্গি মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর এবং যাবজ্জীবন সাজা পাওয়া মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খান। তাদের নির্দেশে হুজির সক্রিয় সদস্যরা মাঠপর্যায়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অর্থের জোগানের পাশাপাশি কারাগারে থাকা সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থার চেষ্টা করছেন এসব সদস্য। এছাড়া নতুন সদস্যদের পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি ইজারা নিয়ে প্রশিক্ষণেরও ব্যবস্থা করছেন তারা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ওই কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের ৬৪ জেলায় হুজির বিস্তার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পরিচয়ে কার্যক্রম চালাচ্ছেন মাওলানা আবু সাঈদ ও মেহেদী হাসানের অনুসারীরা। তাদের মধ্যে সক্রিয় ভূমিকায় রয়েছেন অন্তত ১৫ জন। তাদের অনেকে এর আগে জঙ্গি কার্যক্রম চালানোর সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তারা কখনো কারাগারের ভেতর থেকে আবার কখনো আদালতে হাজিরা দিতে এসে ফাঁকফোকর খুঁজে অন্যদের নির্দেশনা দিচ্ছেন। অনেকে আইনের ফাঁক দিয়ে জামিনও পাচ্ছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের জোরেশোরে কার্যক্রম শুরু করেছেন তারা। জামিনে মুক্ত এসব জঙ্গির ওপর নজরদারি চালানো সম্ভব নয়, কিছু জঙ্গির ওপর নজরদারি আছে। অবশ্য কে কোথায় কী অবস্থায় আছেন সে বিষয়ে নজর রাখার চেষ্টা রয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘জামিন পাওয়ার অধিকার সবারই আছে, এটি সম্পূর্ণ কোর্টের এখতিয়ার। শাস্তি না হলেও কোর্ট কাউকে জামিন দিতে পারে। আর জামিন পাওয়ার পর তারা একই কাজ করছে। এ বিষয়ে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

দুর্ধর্ষ জঙ্গিদের জেল থেকে নির্দেশনা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জেল থেকে তারা যাতে কোনো ধরনের নির্দেশনা দিতে না পারে সে বিষয়ে জেল কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। আদালতে হাজিরা দিতে আনা-নেওয়ার সময়ও যাতে কোনো ধরনের নির্দেশনা দিতে না পারে সে বিষয়ে সতর্ক রয়েছি। তবে তারা সবসময় সুযোগ খুঁজতে থাকে। ফাঁকফোকর দিয়ে তারা নির্দেশনা দেওয়ার চেষ্টা করে। আমরা এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছি।’

এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার সায়েদাবাদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে হুজির অপারেশন শাখার প্রধানসহ তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ। গ্রেপ্তাররা হলেনÑ মো. মাইনুল ইসলাম ওরফে মাহিন ওরফে মিঠু ওরফে হাসান, শেখ সোহান স্বাদ ওরফে বারা আবদুল্লাহ ও মুরাদ হোসেন কবির। এ সময় তাদের কাছ থেকে একটি প্রাইভেট কার, পাঁচটি মোবাইল ফোন, একটি মাইক্রোফোন, একটি চাপাতি, দুটি ছোড়া, ১০টি ডেটোনেটর, ১৭০টি বিয়ারিং লোহার বল, একটি স্কচটেপ, পাঁচ লিটার এসিড, তিনটি আইডি কার্ড ও একটি জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গ্রেপ্তার তিনজন কারাগারে আটক ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাক্তার জাফর এবং ২০০০ সালে কোটালীপাড়ায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামি মেহেদী হাসান ওরফে আবদুল ওয়াদুদ ওরফে গাজী খানের নির্দেশে সাংগঠনিক কাজ করছিলেন। হুজির সক্রিয় সদস্য তারা। গ্রেপ্তার মাইনুল ইসলামের নেতৃত্বে হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামী পুনর্গঠন ও পূর্ণাঙ্গ শূরা কমিটি প্রস্তুত করার কাজ করছিলেন তারা। এছাড়া ব্যাপকহারে সংগঠনের সদস্য রিক্রুটমেন্ট করা, সংগঠনের অর্থদাতা এবং সদস্যদের কাছ থেকে অর্থের জোগান নিশ্চিত করাসহ অস্ত্র সংগ্রহ ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহের কাজ করছিলেন। কারাগারে আটক সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের জামিনের ব্যবস্থার বিষয়েও কাজ করছিলেন তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির পাহাড়ি দুর্গম এলাকায় জমি ইজারা নিয়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন গ্রেপ্তাররা। দেশের ৬৪ জেলায় হুজির বিস্তার ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাংবাদিকতাসহ বিভিন্ন পরিচয়ে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিল। গ্রেপ্তার মাইনুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ সংগঠন হুজির প্রধান অপারেশন সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছিলেন। তিনি সাংবাদিকতার বেশ ধারণ করে সংগঠনের দাওয়াতি কাজ, অর্থ সংগ্রহ এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম সংগ্রহ করে আসছিলেন। তার পরিকল্পনা ছিল ঢাকা শহরে বড় ধরনের নাশকতা করে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা। তিনি ২০১৫ সালে হুজির শীর্ষ নেতা কারাবন্দি মুফতি মঈনউদ্দিন ওরফে আবু জান্দালকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। আর গ্রেপ্তার সোহান স্বাদ সুনামগঞ্জের বিবিয়ানা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি ঢাকায় মিরপুর বাঙলা কলেজে পড়ার পাশাপাশি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করতেন। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় নাশকতার ঘটনায় গ্রেপ্তার হন। এছাড়া তিনি ২০১৭ সালে বিস্ফোরক মামলায় এবং ২০১৯ সালে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হন। জামিনে বের হয়ে তিনি মাইনুলের নেতৃত্বে হুজির সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে গ্রেপ্তার মুরাদ হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর সক্রিয় সদস্য। তিনি ব্যবসার আড়ালে হুজির দাওয়াতি ও বায়তুল মালের দেখভালের দায়িত্ব পালন করতেন। তাদের অন্যান্য সহযোগীকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের কর্মকর্তারা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তার হুজির তিন সদস্যের এই গ্রুপে আরও ১০ থেকে ১২ জন আছেন। তাদের সবাইকে গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে। তাদের জঙ্গি ডাক্তার জাফর ও মেহেদী হাসান কারাগার থেকে দল পুনর্গঠনের নির্দেশ দিচ্ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। কোন কোন মাধ্যমে তারা কারাগার থেকে বাইরে যোগাযোগ করেন এ বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। সেই মাধ্যমগুলো আমরা বোঝার চেষ্টা করছি। সেভাবে আমরা প্রমাণসহ সবকিছু দেখব। এছাড়া দুর্গম পাহাড়ে তারা যাদের ট্রেনিং দিচ্ছেন তাদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।’

কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় তাদের রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।’
সূত্র: দেশ রূপান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *