1. md.sabbir073@gmail.com : amicritas :
"নদী নিয়ে লিখনীয় পঠনীয় যথেষ্ট হয়েছে, এখন দরকার করণীয়" - Metrolife.press
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:১২ পূর্বাহ্ন

“নদী নিয়ে লিখনীয় পঠনীয় যথেষ্ট হয়েছে, এখন দরকার করণীয়”

তন্ময় ইমরান
  • Update Time : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
  • ১০৩ Time View

শেখ রোকন নদী, জলাভূমি ও পানিসম্পদ বিষয়ক নাগরিক সংগঠন রিভারাইন পিপলের প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব। তিনি দুই দশক ধরে নদী নিয়ে লিখছেন, গবেষণা করছেন ও মানুষকে সংগঠিত করছেন। কর্মসূত্রে একটি দৈনিক সংবাদপত্রের সঙ্গে জড়িত, খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে। নদী বিষয়ে তার রচিত ও সম্পাদিত গ্রন্থগুলোর মধ্যে রয়েছে বিষয় নদীনদী চিন্তামেঘনাপাড়ের সংকট ও সংগ্রাম, নদী প্রসঙ্গ, নথিবদ্ধ বড়াল। তিনি ‘নদী’ নামে বার্ষিকপত্রের সম্পাদক।

শেখ রোকন পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা ইউনিভার্সিটি থেকে পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদকীয় নীতি এবং ভারতের সিকিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ভারত-বাংলাদেশ পানি-সম্পর্ক বিষয়ে স্বল্পমেয়াদী শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।

আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবসে বিশেষ সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তন্ময় ইমরান।

তন্ময় ইমরান: আজ আন্তর্জাতিক নদীকৃত্য দিবস। ‘নদীকৃত্য’ মানে কী?

শেখ রোকন: এটা আসলে ইংরেজিতে ইন্টারন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারস এর বাংলা। অ্যাকশন ফর রিভারস এর বাংলা আমরা করেছি ‘নদীকৃত্য’। কৃত্য মানে করণীয়। নদীকৃত্য মানে নদীর জন্য করণীয়। সোজা করে বললে নদীর জন্য করণীয় নির্ধারণের দিন।

তন্ময় ইমরান: আমরা তো বাংলা ভাষায় ‘শেষকৃত্য’ শুনে অভ্যস্ত। একটু নেতিবাচক শব্দ হয়ে গেলো না?

শেখ রোকন: দেখুন, শেষকৃত্য মানেও কিন্তু শেষ করণীয়। সেটাও নেতিবাচক নয়, বরং সমাজ ও মানবতার সবচেয়ে ইতিবাচক কাজ। আর আপনি দেখবেন, বাংলাভাষায় কেবল শেষকৃত্য নয়, বন্ধুকৃত্য শব্দটিও ব্যাপক প্রচলিত। কিন্তু আমরা যখন ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারসের এই বাংলা চালু করার চেষ্টা করি, তখন অনেকে শেষকৃত্য কথাটাই আগে তুলে ধরেছেন। আমার কিন্তু প্রথমে বন্ধুকৃত্য শব্দটিই মনে এসেছিল। এই যে আপনি নিজেও রিভারাইন পিপলের গোড়ার দিকে যে যুক্ত ছিলেন, সেটা সম্ভবত বন্ধুকৃত্য থেকেই। এখনও সাক্ষাৎকারের মধ্য দিয়ে নদী বিষয়ক আলোচনা জনপরিসরে আনার মধ্য দিয়ে খানিকটা বন্ধুকৃত্য করছেন না?

তন্ময় ইমরান: হ্যাঁ, আমার মনে আছে। যখন রিভারাইন পিপল বা তার আগের রিভার-লাভিং পিপল সূচনা হয়, তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তাম। নদী নিয়ে অনেক আলোচনা হতো আমাদের মধ্যে। যাহোক, এই বাংলা চালু করতে গিয়ে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েননি?

শেখ রোকন: অবশ্যই পড়েছি। বিশেষত ফেসবুকের মতো সামাজিক মাধ্যমে প্রথমদিকে অনেকে সমালোচনা করেছেন। আমার কয়েক বছর আগে আমাদের বন্ধু প্রাকৃতিক কৃষির দেলোয়ার জাহানের সঙ্গে এই নিয়ে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছিল। বন্ধুত্বপূর্ণ বিতর্ক। তিনি রিভারাইন পিপলের গোড়ার দিকের শুভাকাঙ্ক্ষি। মনে আছে, আমাদের খুবই প্রিয় দু’জন মানুষ লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ ও নূরুননবী শান্তের সঙ্গেও নিয়ে পর্যালোচনামূলক বিতর্ক হয়েছিল। আমার নিজের সংগঠন রিভারাইন পিপল থেকেও সহযোদ্ধাদের কেউ কেউ এই অনুবাদ চলবে কি-না, মৃদু সন্দিহান ছিলেন।

তন্ময় ইমরান: শেষ পর্যন্ত সবাই গ্রহণ করেছে?

শেখ রোকন: এখন তো নদীকৃত্যই প্রচলিত, আপনার তার প্রমাণ দেখছেন। আজ সংবাদপত্রগুলোতে এ বিষয়ে খবর প্রকাশ হয়েছে। বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন নানা কর্মসূচি নিয়েছে। যদিও করোনা পরিস্থিতির কারণে অন্যান্য বছরের মতো আড়ম্বরপূর্ণ কোনও কর্মসূচিত গৃহীত হয়নি। বিশ্বব্যাপীই এবার নদীকৃত্য দিবস পালিত হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি মেনে। বিভিন্ন সংগঠন প্রথম পৃথক পৃথক বাংলা নামে দিবসটি পালন করলেও গত কয়েক বছর ধরে নদীকৃত্য হিসেবেই উদযাপন করছে।

তন্ময় ইমরান: কোনও প্রতিপাদ্য আছে?

শেখ রোকন: এবারের প্রতিপাদ্য সেলিব্রেটিং রাইটস অব রিভারস। বাংলায় বললে, নদীর অধিকার উদযাপন।

তন্ময় ইমরান: এ দিবসের প্রেক্ষাপট কী?

শেখ রোকন: দিবসটি প্রথম প্রস্তাব করেছিল ইন্টারন্যাশনাল রিভারস নামে একই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বেসরকারি সংগঠন। এখন অবশ্য এই সংগঠনের সদর দপ্তর অস্ট্রেলিয়ায় স্থানান্তর হয়েছে। তাদের উদ্যোগে ১৯৯৭ সালের মার্চে বিশ্বের ২০টি দেশের প্রতিনিধিরা ব্রাজিলের কুরিতিবা শহরে এক সমাবেশে মিলিত হয়েছিল। ওই সম্মেলনের লক্ষ্য ছিল মূলত ড্যামবিরোধী জনমত সংগঠিত করা। সেখান থেকেই প্রতিবছর ১৪ মার্চ ‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব অ্যাকশন ফর রিভারস’ হিসেবে পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই দিবসের ক্ষেত্রে তাৎপর্য হচ্ছে, আগামী এক বছরে নদীর জন্য করণীয় নির্ধারণ করা এবং সে ব্যাপারে জনমত গড়ে তোলা।

তন্ময় ইমরান: বাংলাদেশে কি রিভারাইন পিপল দিবসটি পালন সূচনা করেছিল? কত সাল থেকে?

শেখ রোকন: না, না, বাংলাদেশে এই দিবস যখন পালন শুরু হয়, তখনও রিভারাইন পিপলের জন্মই হয়নি। ব্যক্তিগতভাবে আমি অবশ্য তারও এক দশক আগে থেকে নদী নিয়ে কাজ করছি। লেখালেখি করছি। কিন্তু সাংগঠনিকভাবে রিভারাইন পিপল তখন ছিল না। এদেশে দিবসটি পালন শুরু করে অঙ্গীকার বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বা বাপা। প্রকৌশলী মুহাম্মদ হিলালউদ্দিন এবং ডা. আব্দুল মতিন ইন্টারন্যাশনাল রিভারসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারাই বাংলাদেশে দিবসটি পালনের সূচনা করেন। কত সালে? আমার ধারণা ২০০৫-২০০৬ সালের দিকে প্রথম দিবসটি পালন শুরু হয়। আমরা এর বাংলা নামকরণ করি ২০১১ সালে প্রথম।

তন্ময় ইমরান: রিভারাইন পিপল শুধু দিবসের নামটি বাংলা করার দায়িত্ব নিয়েছিল তাহলে?

শেখ রোকন: ঠিক দায়িত্ব নয়, স্বতস্ফূর্ত কাজ। অনেক কাজের মধ্যে এটা একটা কাজ বলতে পারেন। প্রথম দিকে এই দিবসের পাঁচটি ভাষায় স্টিকার ছিল- ইংরেজি, চীনা, ফরাসী, পর্তুগীজ ও স্পেনিশ ভাষায়। একই ডিজাইনের স্টিকার, অনলাইনে বা অফলাইনে ব্যবহারের জন্য। আমরা সেখান থেকে ২০১৩ সালে এর বাংলা স্টিকার বানাই এবং চালুর জন্য প্রচারণা শুরু করি। মূলত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। পরে অবশ্য মূল সংগঠনই তাদের সেই স্টিকারগুলো পরিবর্তন করে ফেলে।

তন্ময় ইমরান: নদী বিষয়ক যৌথ লেখাও একটা প্রচারণার অংশ বোধহয়। প্রথমদিকে সেসব যৌথ লেখার দুই একটিতে আমার নামও ছিল।

শেখ রোকন: একেবারে শুরু থেকেই নদীকত্যৃ দিবসে আমরা একটি রীতি চালু করেছি বলতে পারেন। সংবাদপত্রে যৌথ লেখা। এবছরও আপনি দৈনিক সমকালে আমাদের যৌথ লেখা দেখতে পাবেন। এছাড়া মাঠ পর্যায়ের আমাদের রিভারাইন কমিটি ও রিভারাইন ক্লাব নানা কর্মসূচি গ্রহণ করে থাকে। বিশেষত নদীকৃত্য দিবসে আমরা গত কয়েক বছর ধরে ‘সাইক্লিং ফর রিভার’ শুরু করেছি। দল বেঁধে সাইকেল চালিয়ে নদীর পাড়ে যাওয়া। আগেই বললাম, করোনার কারণে এবার কর্মসূচি নিয়ে কেন্দ্রীয় কোনও নির্দেশনা নেই। যাদের পক্ষে সম্ভব, স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মসূচি নেবেন।

তন্ময় ইমরান: আগে বিভিন্ন সংবাদপত্রে যৌথ লেখা থাকতো, এখন খুব একটা দেখি না।

শেখ রোকন: এখন এককভাবে প্রকাশ হয়। আজকেও আপনি বিভিন্ন সংবাদপত্রে দেখবেন। আগে আমরা যৌথ লেখা সংগঠিত করতাম এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের জন্য চেষ্টা চালাতাম। ওই উদ্যোগ ছিল আসলে সূচনার জন্য। আমরা জানতাম, কয়েক বছর সংগঠিত করতে হবে। তারপর স্বতস্ফূর্তভাবে চালু হবে। লেখকরা লেখা পাঠাবেন বা সংবাদপত্রগুলো কাউকে দিয়ে লেখাবে প্রতিবেদকদের এসাইনমেন্ট দেবে। সেটাই ঘটছে এখন। আমাদের আর সংগঠিত করতে হয় না। এটাই আমরা চেয়েছিলাম।

তন্ময় ইমরান: নদী নিয়ে আরও কয়েকটি দিবস আছে না?

শেখ রোকন: বাংলাদেশে কেবল নদী বিষয়ে অন্তত তিনটি দিবস পালিত হয়। মার্চে নদীকৃত্য দিবস, আগস্টে নদী অধিকার দিবস, এবং সেপ্টেম্বরে বিশ্ব নদী দিবস। এছাড়াও আপনি পানি দিবস বা জলাভূমি দিবস পাবেন। সেখানেও পরোক্ষভাবে নদীর প্রসঙ্গ আসে।

তন্ময় ইমরান: বিশ্ব নদী দিবস পালনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে আপনারা বোধহয় পথিকৃৎ।

শেখ রোকন: একদম ঠিক বলেছেন। অনেকে নদী দিবস ও নদীকৃত্য দিবসের মধ্যে গুলিয়ে ফেলেন। আমরা বাংলাদেশে ওই দিবস পালন শুরু করেছিলাম এবং প্রথমদিকে বাংলাদেশ প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করতাম। পরের দিকে সমমনা আরও অনেক সংগঠনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজটি আমরা করে থাকি। ওই দিবস উপলক্ষে যৌথভাবে ‘নদীর জন্য পদযাত্রা’ হয় পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্ক থেকে সদরঘাট পর্যন্ত। এছাড়া সংগঠনগুলোর আলাদা কর্মসূচিও থাকে।

তন্ময় ইমরান: দুই দিবসের পার্থক্য কী?

শেখ রোকন: উদ্দেশ্যগত পার্থক্য নেই, বিধেয়গত রয়েছে। বিশ্ব নদী দিবস নদীকৃত্য দিবসের চেয়ে প্রায় দুই দশক বেশি বয়সী। এছাড়া দিবসটি জাতিসংঘ অনুসমর্থিত। নদীকৃত্য দিবস এখন পর্যন্ত কেবল ইন্টারন্যাশনাল রিভারসের উদ্যোগে পালিত হয়। যেখানে যেখানে সংগঠনটির যুক্ততা রয়েছে, কেবল সেইসব দেশে। বিশ্ব নদী দিবস অপেক্ষাকৃত স্বতস্ফূর্ত। নদীকৃত্য দিবসে নদীর জন্য করণীয় বেশি মনোযোগ পায়। আর নদী দিবসে নদীর যে কোনও দিকই মনোযোগে আনা যায়। সেদিক থেকে নদীকৃত্য দিবসের চেয়ে বিশ্ব নদী দিবস বৃহত্তর প্রেক্ষিত ও দর্শন নিয়ে পালিত হয়।

তন্ময় ইমরান: আর নদী অধিকার দিবস?

শেখ রোকন: এটা নিয়ে আপনিও গর্ব করতে পারেন যে, এই দিবস একান্তই বাংলাদেশ থেকে ঘোষিত। আরও ভেঙে বললে রিভারাইন পিপল ঘোষিত। পরে সমমনা পরিবেশবাদী সংগঠনগুলো এতে সমর্থন জানিয়েছে। ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট জাতিসংঘ পানিপ্রবাহ সনদ আইন হিসেবে কার্যকর হয়। এতে যে ৩৫টি দেশের অনুসমর্থন প্রয়োজন হয়, ওই বছর মে মাসে ৩৫তম দেশ হিসেবে ভিয়েতনাম সনদটি তাদের আইনসভায় অনুস্বাক্ষর করে। তিন মাসের প্রবিশনারি পিরিয়ডের পর আগস্ট মাসে সনদটি আন্তর্জাতিক আইনে পরিণত হয়। আমরা আগে থেকেই চেষ্টা করছিলাম যে, বাংলাদেশও যেন সনদটি অনুস্বাক্ষর করে। দুর্ভাগ্যবশত সেটা হয়নি। এ নিয়ে দেশে একটি জোটও রয়েছে, যেখানে রিভারাইন পিপল অন্যতম সদস্য। আমাদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা ড. তুহিন ওয়াদুদ প্রথমে আমার সঙ্গে ধারনাটি নিয়ে কথা বলেন যে, বাংলাদেশে সনদটি অনুস্বাক্ষরিত না হোক, আন্তর্জাতিক আইন হিসেবে কার্যকর হয়েছে। ফলে আমরা ওই দিবসটিকে পালন করতে পারি। আমি সঙ্গে সঙ্গে ও সানন্দে সম্মত হই এবং রিভারাইন পিপল থেকে আমরা নদী অধিকার দিবস ঘোষণা করি।

তন্ময় ইমরান: দিবসটি কি পালিত হচ্ছে?

শেখ রোকন: হ্যাঁ, ২০১৫ সাল থেকেই পালিত হচ্ছে। গতবছর তো বাংলাদেশে বাইরে ভারত ও নেপালেও দুই একটি সংগঠন এই দিবস পালন করেছে। আমরা আশাবাদী, ভবিষ্যতে গোটা বিশ্বেই দিবসটি পালিত হবে।

তন্ময় ইমরান: শুধু দিবস পালন করলেই কি নদী রক্ষা হবে?

শেখ রোকন: আমরা সেটা বলছি না। কিন্তু নদী দিবস পালনের অর্থ হচ্ছে প্রথমত নাগরিকদের এবং দ্বিতীয়ত কর্তৃপক্ষকে নদী সম্পর্কে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া। প্রতিবছরই নানা কর্মসূচি, নীতি ও প্রকল্প গ্রহণ বা বাস্তবায়ন হয়। সেগুলোর পর্যালোচনা সম্ভব হয় দিবস পালনের মধ্য দিয়ে। দিবস উপলক্ষ্যে নদী সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জনপরিসরে আলোচিত হয় এবং জনমত গঠন হয়। ফলে চূড়ান্ত অর্থে এর সুফল পায় নদীগুলো। সেদিক থেকে দিবস পালন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তন্ময় ইমরান: কিন্তু দিবস পালন করা মানে নদী রক্ষার কঠিন কাজ বাদ দিয়ে একটি সহজ কাজ করে দায়িত্ব সারা হয় না?

শেখ রোকন: আপনার এই ধারনার সঙ্গে খুবই দ্বিমত পোষণ করি যে, যারা দিবস পালন করে, তারা শুধু দিবসই পালন করে। আর কোনও কাজ করে না। আরও অনেক কাজের মধ্যে এটি একটি। রিভারাইন পিপল থেকে আমরা নাগরিকদের সংগঠিত করছি, গবেষণা করছি, লেখালেখি করছি। এমনকি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও কেউ যদি দিবস নিয়ে সক্রিয় থাকে, সেটাও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদি কেউ শুধু দিবস পালন করে, সেটাকেও মুক্তমনে স্বাগত জানানো উচিত। দেখুন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলেছেন ‘তোমার হাতে নাই জগতের ভার’। নদী সুরক্ষার কাজটি একটি বিশাল জগত। সব কাজতো আপনি করতে পারবেন না। আপনি যতটুকু পারবেন, ততটুকু করবেন। দিবস পালনের মধ্য দিয়ে যদি অন্যরা জাগ্রত হয় এবং নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসে তাহলে সার্বিকভাবে নদী সুরক্ষার কাজ এগিয়ে যাবে। এর প্রভাব কোথাও না কোথাও পড়ছে। বিন্দু বিন্দু বারি জমা হয়েই নদী সুরক্ষার সিন্ধু তৈরি হবে।

তন্ময় ইমরান: এর সঙ্গে আইন ও নীতিগত অবস্থানও জরুরি। নদী সুরক্ষায় আমাদের রাষ্ট্রের নীতিগত অবস্থান কেমন?

শেখ রোকন: আমি বলব, যথেষ্ট। আমাদের সংবিধানে পরিবেশ সুরক্ষার অঙ্গীকার যুক্ত হয়েছে পঞ্চম সংশোধনীর মধ্য দিয়ে। এছাড়া ৩০টির বেশি আইন, বিধিমালা ও নীতি রয়েছে যার সঙ্গে নদীর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। প্রায় এক কুড়ি সরকারি সংস্থা, অধিদপ্তর ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলো নদী নিয়ে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কাজ করে। আমাদের উচ্চ আদালত নদী বিষয়ে খুবই সক্রিয় ও সংবেদনশীল। বিশ্বের আর কোনও দেশের উচ্চ আদালত নিয়ে নদী বিষয়ে এতো ইতিবাচক অবস্থান গ্রহণ করেছে বলে আমার জানা নেই। আপনি আর কী চান?

তন্ময় ইমরান: নদী বিষয়ে গবেষণা, লেখালেখি আরও বাড়ানো দরকার কি-না?

শেখ রোকন: দেখুন, নদী নিয়ে আইন, গবেষণা, লেখালেখি যথেষ্ট হয়েছে। আমরা দেখছি, আইন আছে প্রয়োগ নেই। উচ্চ আদালতের নির্দেশনাও অনেকক্ষেত্রে প্রতিপালিত হয় না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ে নদী নিয়ে যে সদিচ্ছা, তা মাঠ পর্যায়ে প্রতিফলিত হয় না। ফলে আমি বলব- নদী নিয়ে লিখনীয়, পঠনীয় অনেক হয়েছে, এখন দরকার করণীয়। নদীকৃত্য বা নদীর জন্য করণীয় দিবস সে কারণেও জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ। নদী দিবস পালন সেই কারণে জরুরি। আমাদের নাগরিকদের এবং কর্তৃপক্ষকে নদী বিষয়ে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য বা করণীয় সম্পর্কে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য।

তন্ময় ইমরান: আপনার ভাষায় বলি, সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে নদীময় শুভেচ্ছা।

শেখ রোকন: আপনাকেও নদীময় শুভেচ্ছা। মুজিববর্ষ উপলক্ষে আপনারা বিশেষ আয়োজনের যে শিরোনাম করেছেন, সেটা আমার খুবই পছন্দ হয়েছে। সেখানে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে নদীর কথাও আছে- ‘যতকাল রবে পদ্মা যমুনা গৌরী মেঘনা বহমান…’।

সূত্র: বিডি নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *