1. md.sabbir073@gmail.com : amicritas :
চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলায় অনীহা - Metrolife.press
শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ১২:০২ পূর্বাহ্ন

চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলায় অনীহা

ইমন রহমান
  • Update Time : বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১
  • ১১১ Time View

রাজধানীতে বেসরকারি একটি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খন্দকার দিদারুল ইসলাম (৪৮)। পরিচয়ের সূত্র ধরে দীর্ঘদিন তার সঙ্গে ফোনে কথা বলে আসছেন নিজেকে একটি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয়ে মো. আরিয়ান হাওলাদার (২৬)। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্স্যুরেন্স করানোর কথা বলে উত্তর ধানমণ্ডির লেক সার্কাস এলাকায় দিদারের বাসায় হাজির হন আরিয়ান। একা বাসায় থাকায় তাকে চা-বিস্কিট দিয়ে আপ্যায়ন করেন দিদার। চায়ের সঙ্গে দুজনের আলাপ জমে ওঠে। এরই মধ্যে সুযোগবুঝে কলম চান, দিদার সেটি আনতে গেলে তার চায়ের কাপে ঘুমের ওষুধ দেন আরিয়ান। কলম হাতে ফিরে এসে চা পানের কিছুক্ষণের মধ্যে ঘুমিয়ে যান দিদার। পরদিন সকালে ঘুম ভেঙে দিদার দেখেন তার ল্যাপটপ, নগদ টাকা এমনটি বাসার দামি টেলিভিশনও খোয়া গেছে। এ ঘটনায় ২১ ফেব্রুয়ারি কলাবাগান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন দিদার। সেখানে তিনি চুরির তথ্য গোপন করে এসব জিনিসের সঙ্গে ব্যক্তিগত এনআইডি, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড হারানোর তথ্য জুড়ে দেন।

এ বিষয়ে দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘বাসা থেকে সবমিলে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার জিনিস চুরি হয়েছে। এর বাইরে আমার ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি নম্বর দিয়ে অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম দারাজে দেড় লাখ টাকার মালামাল অর্ডার করা হয়েছে।’ চুরির মামলা না দিয়ে হারানোর জিডি কেন করলেন, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘মামলা-মোকদ্দমা অনেক ঝামেলার। ব্যাংকে চাকরি করি, এতকিছুর সময় নেই। মূলত চুরি যাওয়া জিনিস বিষয়ে পরবর্তী আইনি ঝামেলা এড়াতেই জিডি করেছি।’

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) একাধিক কর্মকর্তা জানান, রাজধানীতে একাধিক চক্র বিভিন্ন এলাকা ভাগ করে চুরি-ডাকাতি করছে। এরা একে অন্যের এলাকায় যায় না। চক্রের সদস্যরা কয়েকটি বাসা টার্গেট করে তার আশপাশে কোনো একটি বাসায় ভাড়া ওঠে। কয়েক মাস রেকির পর সুযোগবুঝে চুরি-ডাকাতি শেষে তারা উধাও হয়ে যায়। অনেকে প্রত্যন্ত এলাকায় আত্মগোপন করে। কিছুদিন পর আবার ঢাকায় এসে একই অপকর্ম করে। কিন্তু এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ভুক্তভোগী ঝামেলা এড়াতে মামলা করেন না। এজন্য অপরাধীদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে বলে জানান তারা।

ডিএমপি সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, গত বছর বিভিন্ন থানায় ডাকাতির ২১টি ও চুরির ১ হাজার ৫১৭টি মামলা হয়েছে। আর চলতি বছরের প্রথম মাসে ডাকাতির ৩টি এবং চুরির ১২৮টি মামলা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, সত্যিকার অর্থে মামলার চেয়ে অনেক বেশি চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটলেও থানায় এসে তথ্য গোপন করেন ভুক্তভোগীরা। অনেকের বাসার গ্রিল কেটে বা দরজা ভেঙে অস্বাভাবিক পরিমাণ টাকা, ডলার, স্বর্ণ, হীরা চুরি হওয়ার পরও তারা থানায় অভিযোগ করেননি। খোয়া যাওয়া অর্থ-সম্পদের উৎসে ঝামেলা থাকায় সংশ্লিষ্টরা থানা-পুলিশ করেন না। অপরাধের প্রকৃত তথ্য ভুক্তভোগী থানায় না দিলে পুলিশ অন্ধকারে থাকে, গ্রেপ্তারের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।

তবে একাধিক ভুক্তভোগী জানান, থানা-পুলিশ কিংবা কোর্ট-কাচারি এ দেশে খুবই ঝামেলার। এজন্য মামলা না করে নীরবে ক্ষতি মেনে নেন। আবার যারা আগ্রহ নিয়ে থানায় যান, পুলিশ তাদের হারানোর জিডি করতে বলে। এতে করে প্রতিকার না পেয়ে চুরি-ডাকাতির ঘটনায় মামলা করতে খুব একটা আগ্রহ পান না।

রাজধানীর চকবাজারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষকের বাসায় গত বছর আগস্টে চুরি হলেও তিনি থানায় অভিযোগ করেননি। চলতি বছর অন্য একটি ঘটনায় গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদে ডিবি জানতে পারে, এ চোররাই ঢাবির ওই শিক্ষকের বাসায় চুরি করেছিল। চোরাই মালামাল উদ্ধারের পর চকবাজার থানায় মামলা করেন ওই শিক্ষক। এ চক্রের সদস্যরা গত বছর সেপ্টেম্বরে রাজধানীর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের বিপরীতে এক মানব পাচারকারী ও হুন্ডি ব্যবসায়ীর বাসায় চুরি করে। তারা ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা মূল্যের ডলার, দিনার ও পাউন্ড নিয়ে যায়। অথচ এ ঘটনাতেও কোনো মামলা করেননি ভুক্তভোগী।

আরেকটি চক্র রাজধানীর গ্রিন রোডে সেন্ট্রাল হাসপাতালের পাশে এক ব্যবসায়ীর বাসায় ডাকাতি করে। বাসা থেকে তারা ১৮টি হীরার আংটি ও নেকলেস নিয়ে যায়। এ ঘটনাতেও কোনো মামলা করেননি ওই ব্যবসায়ী। পরে অন্য একটি মামলায় ডাকাতচক্র গ্রেপ্তার হওয়ার পর ঘটনাটি পুলিশ জানতে পারে। পরে বাসার মালিককে মামলা করতে বললেও তিনি রাজি হননি।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিবির এক কর্মকর্তা জানান, একটি চক্রের সদস্যদের ধরার পর তারা রাজধানীর মগবাজারে রাজস্ব বিভাগের এক ডিসির বাসা থেকে কিছুদিন আগে ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা চুরির তথ্য দেয়। চোরদের নিয়ে ওই বাসা চিহ্নিত করা হলেও ভুক্তভোগী কোনো মামলা করতে রাজি হননি।

ডিবির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘প্রত্যেকটি ঘটনার পর দ্রুত অপরাধী শনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে অপরাধ কমানো যাবে না। অপরাধের বিবরণ সঠিক সময়ে থানাকে না জানালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অন্ধকারে থেকে যায়। ফলে একটা পর্যায়ে অপরাধীদের ধরা কঠিন হয়ে পড়ে।’ পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘অপরাধমূলক কিছু ঘটলেই তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানানো উচিত। কারণ আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে সর্বদা চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
সূত্র: দেশ রূপান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *