1. md.sabbir073@gmail.com : amicritas :
অর্ধকোটি মাদকাসক্ত ৩৭০টি নিরাময় কেন্দ্র - Metrolife.press
বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর ২০২১, ১০:৪৭ অপরাহ্ন

অর্ধকোটি মাদকাসক্ত ৩৭০টি নিরাময় কেন্দ্র

ইমন রহমান
  • Update Time : শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১১ Time View

দেশে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে অর্ধকোটির বেশি মানুষ মাদকাসক্ত থাকলেও তাদের চিকিৎসায় নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থাপনা খুবই নাজুক। সারা দেশে মাত্র চারটি সরকারি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ১৯৯টি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হয়। অন্যদিকে বেসরকারি ৩৬৬টি কেন্দ্রে ৪ হাজার ৭১১টি শয্যা থাকলেও ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় অনেকে চিকিৎসা করাতে পারেন না। ফলে এসব মাদকাসক্ত ছিনতাই, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।

চিকিৎসকরা বলছেন, হেরোইন, ইয়াবা, এলএসডি, আইসসহ বিভিন্ন মাদকে কেউ দীর্ঘদিন আসক্ত হলে অস্বাভাবিক আচরণ করে। যথাযথ চিকিৎসা ছাড়া তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরানো সম্ভব নয়।

মাদকের বিস্তার ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি সঠিক চিকিৎসা খুবই জরুরি। অপ্রতুল চিকিৎসার পাশাপাশি দেশের ১৯টি জেলায় সরকারি-বেসরকারি কোনো নিরাময় কেন্দ্রই নেই। এমন প্রেক্ষাপটে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকাসক্তদের সুস্থ জীবনে ফেরাতে নানা পদক্ষেপ নিয়েছে।

অধিদপ্তরের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন অধিশাখার কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে নিরাময় কেন্দ্র বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে দেশের সবক’টি বিভাগে সরকারিভাবে নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শেষ হবে। আগামীতে সব জেলায় যাতে সরকারিভাবে নিরাময় কেন্দ্র থাকে, সে বিষয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের তথ্যমতে, গত ১০ বছরে তাদের কেন্দ্র থেকে অন্তত ২ লাখ ৭১ হাজার ২৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন এবং তাদের বেশিরভাগ স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১২৪টি শয্যা রয়েছে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে। অন্যগুলোর শয্যা সংখ্যা ২৫টি করে। এসব নিরাময় কেন্দ্রে ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৪৪৫ জন। ২০১৬ সালের পর থেকেই রোগী বাড়ছে। ২০১৯ সালে রেকর্ড ২৭ হাজার ৯৮৩ জন চিকিৎসা নেন। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে এ সংখ্যা ১০ হাজার ১৪ জন। নামমাত্র খরচ বলে সরকারি নিরাময় কেন্দ্রে রোগীর চাপ বেশি। অন্যদিকে বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৯৫টি কেন্দ্রে ২ হাজার ৬৭৩টি শয্যায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বেসরকারি কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়েছেন ১ লাখ ৭ হাজার ৭৮৭ রোগী। ২০২০ সালে সবচেয়ে বেশি ১৫ হাজার ১৮১ জন চিকিৎসা নেন।

চিকিৎসকরা বলছেন, মাদকাসক্তের চিকিৎসা সময়সাপেক্ষ। এক থেকে দুই বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের রেসিডেন্ট সাইকিয়াট্রিস্ট ডা. রায়হেনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাদক গ্রহণের বিষয় সবাই বুঝতে পারেন। ফলে কারও আচরণে অসামঞ্জস্য কিছু দেখা গেলে সাইকিয়াট্রিস্টের কাছে নিতে হবে। সে রোগী হলে তাকে চিকিৎসা দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদকাসক্তি নিরাময় হয় না; নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়। সেক্ষেত্রে এক থেকে দুই বছরও চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।’

দেশে মাদকাসক্তদের সংখ্যা কত, তার সঠিক কোনো তথ্য খোদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাতেও নেই। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এক সময় অধিদপ্তরের ধারণা ছিল, দেশে ৭০ লাখের বেশি মানুষ মাদকাসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন গবেষণাপত্রে এ সংখ্যাই উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক জরিপ প্রতিবেদনে দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা ৬৬ লাখ উল্লেখ করা হয়। তবে একই বছর প্রথমবারের মতো সমীক্ষা চালিয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ বলে জানায়।

মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় সরকার ১৯৮৮ সালে ঢাকার তেজগাঁও শিল্প এলাকায় প্রতিষ্ঠা করে ‘কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র’। এরপর চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও খুলনাতে বিভাগীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র করা হয়। পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র করা হয়। এখন পর্যন্ত শরীয়তপুর, রাঙ্গামাটি, বান্দরবন, খাগড়াছড়ি, চাঁদপুর, বাগেরহাট, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল, মেহেরপুর, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, পটুয়াখালী, বরগুনা, ভোলা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় ১৯টি জেলায় সরকারি-বেসরকারি কোনো মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র গড়ে ওঠেনি।

তবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় বেশকিছু প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মাদকাসক্তদের পুনর্বাসনে সরকারি অর্থায়নে সংশোধনাগার বৃদ্ধি, কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলোর চিকিৎসক-নার্সদের প্রশিক্ষণ সুবিধাসহ ২৫০ শয্যায় উন্নীত, সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যার মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বসান কেন্দ্র নির্মাণ, বেসরকারি মাকদাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রগুলোকে সরকারি অনুদান ইত্যাদি।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিচালক (চিকিৎসা ও পুনর্বাসন) মু. নুরুজ্জামান শরীফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রগুলো আধুনিকায়নে বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। মাদকাসক্তদের চিকিৎসায় এগুলো আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতাল হবে। সরকারিভাবে প্রত্যেকটি বিভাগীয় শহরে একটি করে হাসপাতাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চারটি বিভাগে ইতিমধ্যে হাসপাতাল হয়েছে, প্রক্রিয়াধীন বাকিগুলোর কাজ চলতি বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে। আমরা গ্রেটার ২১টি জেলায় ১০০ ও বাকি জেলায় ৫০ শয্যার হাসপাতাল করার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এটি না হলে বিকল্প হিসেবে প্রত্যেক জেলার জেনারেল হাসপাতালে ১০০ শয্যার একটি আলাদা ওয়ার্ড করার প্রস্তাব রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোনো কোনো জেলা থেকে বেসরকারি উদ্যোগে নিরাময় কেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সাড়া না পাওয়ায় আমরা শর্ত শিথিল করছি। নিরাময় কেন্দ্রগুলোকে প্রণোদনাও দেওয়া হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছর ৯১টি কেন্দ্রকে ১ কোটি টাকা এবং চলতি বছর ১৩৭টি কেন্দ্রকে দেড় কোটি টাকা প্রণোদনা দিয়েছি। এছাড়া একেবারেই দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা ব্যয়ের একটি অংশ দেওয়ার চিন্তা আমাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।’
সূত্র: দেশ রূপান্তর

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *